সমকামী বিরোধীরাই যখন সমকামীতায় লিপ্ত

সমকামীতা নিয়ে যাদের এত সমস্যা, এত ধর্মান্ধতা, তারাই কেন এই সমকামীতায় লিপ্ত? পত্রিকা খুললেই চোখে পরে মাদ্রাসায় শিশু ছাত্র বলাতকারের খবর। জ্বিনের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ, আদর করার নামে ধর্ষণ, প্রহারের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ, এরকম আরও হাজার রকমের শিরোনাম চোখে পরে। কিন্তু কেন? এই মাদ্রাসার হুজুররাইতো সমকামীতার বিরুদ্ধে, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর এলজিবিটিকিউ রাইটস এগুলোর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার। বিষয়টা এমন যে এরা সমকামী হয়েও নিজেদের সমকামী স্বীকার করতে চায় না শুধুমাত্র ইসলামের দোহায় দিয়ে। কেন এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড? এরাই নাকি ইসলাম ধর্মের অনুসারী! তবে কি ইসলাম ধর্মে এগুলোই শিক্ষা দেয়?

এইতো সেদিনই পত্রিকায় পড়লাম জ্বিনের ভয় দেখিয়ে একাধিক ছেলে ও মেয়ে শিশু শিক্ষার্থীকে মসজিদের এক বিশেষ কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ এবং তা মোবাইল ফোনে ধারণ করে আসছে ঢাকার দক্ষিণখানের এক ইমাম। পরবর্তীতে ধারণকৃত ওই ভিডিও দেখিয়ে আবার ধর্ষণে বাধ্য করতো সে। এই যদি হয় এক ইসলামী হাফেয-হুজুরের কাজ, তবে সেই ইসলাম ত্যাগ করাই শ্রেয় বলে আমি মনে করি।

অথচ এই মুসলমানরাই মনে করে সমকামীতা এক ধরণের বিকৃত যৌনাচার। এদের ভয়ে এদেশে এখনো মুক্তমনা, সমকামীরা স্বাধীনভাবে নিজেদের অধিকার নিয়ে জীবনযাপন করতে পারছে না। আমরা যারা গুটিকয়েক মানুষ এই বিষয়গুলো নিয়ে সোচ্চার, আমাদেরকেও অনেক হুমকি-ধামকির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। যে দেশে এখনো মঙ্গলশোভাযাত্রার বিরুদ্ধেও মানুষ প্রতিবাদ করে, সেদেশে সমকামীতার বৈধতা পেতে এখনও কয়েক আলোকবর্ষ দেরি। কিন্তু আমি বলবো, তবুও সাহস হারানো যাবে না, উই হ্যাভ নাথিং টু লুজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *